মন সংযত না হলে মনুষ্যত্ব থাকে না

অভিজ্ঝা,ব্যাপাদ, মিচ্ছাদিট্ঠি-অভিধ্যা,ব্যাপাদ ও মিথ্যাদৃষ্টি। অভিজ্ঝা- অন্যের ধন-সম্পদকে নিজের করার চিন্তা। ব্যাপাদ- কাউকে ক্ষতি করার চিন্তা। মিচ্ছাদিট্ঠি-কর্মের হেতু অস্বীকার,কর্মের ফল অস্বীকার ও কর্মকে অস্বীকার করার মিথ্যাদৃষ্টি।

(১) অভিজ্ঝা- অভি+জ্ঝা। অভি- অন্যের ধন-সম্পদকে। জ্ঝা- নিজের করা চিন্তা। অন্যের সম্পত্তিকে নিজের করার চিন্তাটা চোর ডাকাত হবার প্রবণতা থাকে। এই চিন্তা অত্যন্ত বিপদজনক। ইহা অকুশল চিন্তা, মানসিক দুশ্চরিত পঙ্কিল। এরুপ চিন্তা থেকে বিরত থাকাটাই মনুষ্যত্বকে ধরে রাখা।

(২) ব্যাপাদ- অপছন্দ কোন মানুষকে দেখলে তার মনের এই চিন্তা উৎপন্ন হয়। ওহ্ অসহ্য ! এই লোকটা চলে গেলে ভাল হয়। অমঙ্গল হলে ভাল হয়। তার বিপদ হলেই ভাল হয়। পরশ্রীকাতর কৃপণতা থেকে কারো’র ক্ষতি করার চিন্তাকে পালিতে ‘ব্যাপাদ’ বলে। এই সমস্ত চিন্তা থেকে বিরত থাকাটাই মনুষ্যত্বকে ধরে রাখা।

(৩) মিচ্ছাদিট্ঠি (মিথ্যাদৃষ্টি) নিজের কৃত পাপপুণ্য কর্মকে স্বীকার না করে অমূলক কাল্পনিক অনুমানকে স্বীকার করে। সৎকর্মের সুফল হয় না। অসৎকর্ম কর্মের সুফল হয়। পাপী পাপ কর্ম করে কত সম্পদের মালিক হয়েছে দেখছি। সৎজনরা কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছে দেখছি। চেতনাগত কর্মের রহস্য মানুষের চোখ ঘুরিয়ে দেয়। আসলে সুখ দুঃখের পেছনে যে কৃতকর্মের হেতু রয়েছে সেটিকে বুঝে উঠতে না পারার কারনে বিপরীতমুখী চিন্তা করে থাকে। পাপপুণ্য কর্মের হেতু অস্বীকার করাটা অহেতুক মিথ্যাদৃষ্টি। পাপপুণ্য কর্মের ফল অস্বীকার করাটা নাস্তিক মিথ্যাদৃষ্টি হয়। সৎ অসৎকর্মকে অস্বীকার করাটা অক্রিয়া মিথ্যাদৃষ্টি।

মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন সত্ত্বগণ কখনো সুগতি সদ্গতি হয় না। কেন হয় না? মন পাপকর্ম করতে লজ্জা করে না, পাপকর্মকে ভয় করে না, যা তা কর্ম করে। মন কি করে? মন কারো’র সুখ সহ্য করে না, নিজের সুখও কাউকে ভাগ দেয় না। অপছন্দ কাউকে দেখলে মনের হিংসা জ্বলে উঠে। নিজের এবং অপরের ক্ষতিকারক মিথ্যাদৃষ্টি থেকে বিরত থাকাটাই মনুষ্যত্বকে সার্থক করা।

উপরোক্ত ক্ষতিকর চিন্তাগুলো থেকে বিরত হয়ে সম্যকদৃষ্টি সম্মত আত্ম ও পরহিতকর কর্ম করা। অন্যজনের ধন-সম্পদকে নিজের করণের চিন্তা না করে কেবল ধর্ম সম্মত ধন-সম্পদ অর্জনের চিন্তা করা। অন্যেজনের ক্ষতি চিন্তা না করে কেবল সুখ সমৃদ্ধির চিন্তা করা। সম্যকদৃষ্টির দ্বারা মিথ্যাদৃষ্টিকে দূর করা।

যে যেমন কর্ম করে; অনুরুপ ফল সে ভোগ করে ইহাই কর্মের স্বকীয়তা মনুষ্যত্বের জ্ঞান। কর্মস্বকীয়তা জ্ঞান দুঃখের কারন তৃষ্ণার থেকে মুক্ত হওয়ার উপকার করে।
সবার হিত সুখ মঙ্গল হোক।

লিখেছেন: U Pannya Dipa

Please follow and like us:
error0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close